আমার কাছে ফিরো (Come Back to Me)-02

 

শিরোনাম: আমার কাছে ফিরো (Come Back to Me)


অধ্যায় ১: অজানা আশায়

অভি আর রোহিতা, একে অপরের জীবনে ছিল একটি অপরিহার্য অংশ, যতটা না প্রেম, তার চেয়ে বেশি ছিল বন্ধুত্বের অটুট সম্পর্ক। তারা একে অপরকে জানত, বুঝত, এবং একে অপরের পাশে থাকত কোন না কোনভাবে। স্কুলের প্রথম দিন থেকেই তাদের সম্পর্কটা ছিল দারুণ। তারা একসাথে পড়াশোনা করত, একসাথে স্কুলের খেলাধুলায় অংশ নিত, এবং একে অপরের শখ, স্বপ্ন, দুঃখ, সুখ সবকিছু শেয়ার করত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, কিছু অজানা কারণে, তাদের এই সম্পর্কটা টিকে থাকেনি।

রোহিতা যখন অভিকে প্রথমবার ভালোবাসার কথা বলেছিল, অভি তখনই ভুলভাবে বুঝে নিয়েছিল। সে ভেবেছিল, রোহিতা তার বন্ধুর মতো, সে শুধুই বন্ধুত্বের কথা বলছে। কিন্তু রোহিতা তাকে যেভাবে অনুভব করেছিল, তাতে তাদের সম্পর্ক একদম অন্য দিকে চলে গিয়েছিল। একদিন, অভি একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল—সে রোহিতাকে অবহেলা করেছিল, তাকে অবাক করে দিয়েছিল, আর তাদের সম্পর্ক একটানা ক্ষয় হতে শুরু করেছিল।

রোহিতা, প্রথমে কিছুই বুঝতে পারছিল না। সে বিশ্বাস করতে চাইছিল না যে অভি তাকে এভাবে ছেড়ে যাবে। কিন্তু সময় সবকিছু পরিষ্কার করে দিল, এবং অবশেষে রোহিতা নিজেকে খুঁজে পেতে শুরু করল। সম্পর্কটা ছিন্ন হয়েছিল, আর অভি অন্য এক পথে চলে গিয়েছিল। কিন্তু রোহিতার মন এখনও অভির কাছে আটকে ছিল, এবং তার মনে ছিল শুধু একটাই প্রশ্ন—“কী ভুল হয়েছিল? কেন সে আমাকে ছেড়ে গেল?”


অধ্যায় ২: আলাদা পথে

অভি, রোহিতার থেকে দূরে চলে গেল। সে তখন নতুন শহরে, নতুন পরিবেশে, নতুন মানুষের মাঝে নিজেকে ভাসিয়ে দিল। তার জীবন ছিল এখন একেবারেই বদলে যাওয়া। পড়াশোনা, চাকরি, আর নতুন সম্পর্ক—অভি তীব্রভাবে মগ্ন ছিল। তবে কিছুটা সময় পরে, তার মনে প্রশ্ন উঁকি দিতে শুরু করেছিল—"রোহিতা কি ঠিক ছিল? আমি কি ওকে ঠিকভাবে বুঝেছিলাম?" তবে অভি জানত, সময় পাল্টে গেছে। তাদের সম্পর্ক এখন অতীত হয়ে গেছে।

রোহিতা, অন্যদিকে, অভির চলে যাওয়ার পর পুরোপুরি একা হয়ে পড়েছিল। সে কখনো নিজের শখ ও স্বপ্নগুলো পূর্ণ করতে পারেনি। তার জীবন ছিল এক কঠিন অধ্যায়, যেখানে অভির স্মৃতিগুলো বারবার ফিরে আসত। সে বুঝতে পারছিল না, কীভাবে এই স্মৃতি তাকে এতটাই বন্দি করে রেখেছে।

তবে রোহিতা কখনোই অভির প্রতি তার অনুভূতি বন্ধ করেনি। তার মন তাকে বারবার সেই পুরনো দিনে ফিরিয়ে নিয়ে যেত, যখন তারা একসাথে হাসত, গল্প করত, এবং একে অপরকে ভালোবাসত। কিন্তু সে জানত, অভি আর কখনো ফিরে আসবে না।


অধ্যায় ৩: ফেরার পথে

বছর দশেক কেটে গেল, আর রোহিতা একদিন তার জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে চলেছিল। সে একটি ছোট চাকরি খুঁজে পেয়েছিল এবং তার জীবনের কিছুটা স্থিরতা ছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন, ফোনে একটি অচেনা নম্বর থেকে কল এলো। রোহিতা ফোনটি ধরল। ওপাশ থেকে এক পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এল—“রোহিতা?”

এই কণ্ঠে তার পুরনো আবেগ ফিরে এল। তার হৃদয়ে ঝংকৃত হল। অভি। তার নীরব দুঃখ এবং দীর্ঘ অপেক্ষা অবশেষে তার কাছে ফিরেছিল।

“অভি? তুমি?” রোহিতা একেবারে স্তম্ভিত হয়ে গেল। সে বিশ্বাসই করতে পারছিল না যে, অভি তার কাছে ফিরে এসেছে।

অভি একটুখানি থেমে গিয়ে বলল, “হ্যাঁ, রোহিতা। আমি জানি, আমি যা করেছি, তা খুব ভুল ছিল। আমি বুঝতে পেরেছি, অনেক কিছু মিস করেছি। আমি… আমি তোমার কাছে ফিরতে চাই।”

রোহিতার চোখে জল চলে এসেছিল। এত বছর পর, এত অনেক কষ্টের পর, এই একটি শব্দ—“ফিরতে চাই”—তার মনের ক্ষতগুলো একসাথে খুলে দিল।


অধ্যায় ৪: পুরনো সম্পর্কের পুনঃগঠন

রোহিতা অনেক কষ্টে, অনেক সময়ের পরে, অভির সঙ্গে দেখা করতে রাজি হয়েছিল। কিছু একটা তার মধ্যে ছিল, যা তাকে অভির দিকে ফিরিয়ে নিয়েছিল। তবে তার মনেও কিছু প্রশ্ন ছিল—“তুমি কেন আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলে? কেন এত বছর পর ফিরে আসলে?” কিন্তু সে জানত, অভির কাছ থেকে সেগুলোর উত্তর পাওয়া সম্ভব নয়।

এতদিন পর, যখন তারা একে অপরের সামনে দাঁড়াল, তাদের সম্পর্কটি কোনো আগের মত ছিল না। অভি জানত, সময়ের সাথে সম্পর্ক বদলে গেছে, এবং সে জানত, রোহিতা এখন তাকে নতুন চোখে দেখবে। তাদের মধ্যে কোনো পুরনো ঝগড়া বা অভিযোগ ছিল না, তবে কিছু নিরব কষ্ট ছিল, যা দুজনের মধ্যে অদৃশ্য ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।

রোহিতা প্রথমে একেবারেই কিছু বলতে পারছিল না, তার চোখে কেবল এক অনিশ্চয়তা ছিল। তবে, কিছুক্ষণ পর সে বলল, “তুমি কি জানো, অভি, আমি কত দিন তোমার অপেক্ষা করেছি? তোমার চলে যাওয়ার পর, আমার জীবনে কিছুই ঠিক ছিল না। আমি সবকিছু ছেড়ে দিয়েছি, শুধু তোমার জন্য। তুমি আসবে, এটা ভেবেই বাঁচতাম। কিন্তু তুমি কি জানো, আমি কেন তোমাকে ফিরিয়ে নিতে ভয় পাই?”

অভি অবাক হয়ে বলল, “কেন? আমি তো তোমাকে ভুল বুঝেছিলাম।”

“না, অভি, তুমি আমাকে ভুল বোঝোনি,” রোহিতা বলল, “তুমি আমার ভালোবাসাকে ভালোভাবে অনুভবই করতে পারনি। আমি জানি, আমাদের মাঝে অনেক কিছু বদলে গেছে। কিন্তু এখন আমি জানি, আমি আর সেই রোহিতা নেই। আর তোমাও সেই অভি নও, যাকে আমি একসময় ভালোবাসতাম। আমরা দুজনেই বদলে গেছি।”

অভি চুপ ছিল। সে জানত, এই কষ্টটা তাকে স্বীকার করতে হবে। এবং রোহিতা জানত, এই কষ্টটা অনেক দিন ধরে চলতে থাকবে।


অধ্যায় ৫: আলাদা পথ

বছরখানেক পর, তারা আবার দেখা করল। এইবার, তাদের মধ্যে আর কোনো অভিযোগ ছিল না। তবে তাদের সম্পর্ক কখনোই আগের মতো হয়নি। তারা একে অপরকে নতুন চোখে দেখেছিল, এবং জানত, তাদের পুরনো সম্পর্ক হয়তো আর কখনো ফিরবে না।

রোহিতা আর অভি, একে অপরকে নিয়ে নতুন করে ভাবছিল, কিন্তু তারা জানতো, তাদের দুজনের পথ এখন আলাদা হয়ে গেছে। তাদের সম্পর্ক, তাদের ভালোবাসা—সব কিছুই অদৃশ্য হয়ে গেছে, কিন্তু সেটা কোনো দুঃখের কথা নয়। বরং, সেটা ছিল এক নতুন জীবন শুরু করার অঙ্গীকার।

তাদের সম্পর্কের শেষ ছিল এক অদ্ভুত তৃপ্তিতে। তারা জানতো, তারা একে অপরকে ভালোবাসত, তবে তাদের জীবন এখন অন্য কোনো পথে এগিয়ে চলেছিল।


শেষ

Comments