আমার কাছে ফিরো (Come Back to Me)

 

শিরোনাম: আমার কাছে ফিরো (Come Back to Me)


অধ্যায় ১: প্রথম দেখা, প্রথম ভালোবাসা

বগুড়ার এক ছোট্ট গ্রামে বেড়ে ওঠা নিলয় আর মিমি দু'জনেই ছিল একে অপরের প্রিয় বন্ধু। মিমি ছিল একদম আলাদা—মুখে হাসি আর চোখে স্বপ্নের দ্যুতি ছিল। আর নিলয় ছিল একটু নির্জীব, কিছুটা অন্তর্মুখী, কিন্তু যখন সে মিমির পাশে থাকত, তার পৃথিবীটা আলাদা হয়ে যেত। তারা একে অপরের সাথে বড় হয়েছিল, একে অপরের খুশি, দুঃখ, আশা, আর হতাশার সঙ্গী হয়েছিল। ছোটবেলায়, তারা একে অপরকে খুব ভালোবাসতো—একটা নিষ্পাপ ভালোবাসা যা খুব সহজেই শব্দে প্রকাশ করা যায় না।

একদিন স্কুলের পিকনিকে, নিলয় মিমির কাছে গিয়ে বলেছিল, “তুমি জানো, মিমি, তোমার সাথে থাকতে খুব ভালো লাগে। তুমি কি কখনো ভাবো, আমাদের এই বন্ধুত্বটা কখনো কিছুটা অন্য রকম হয়ে যেতে পারে?”

মিমি হেসে বলেছিল, “তুমি কি বলছো, নিলয়? তুমি তো আমার বন্ধু, আর আমি জানি, তুমি কখনো কিছু অন্যরকম ভাববে না!”

কিন্তু নিলয়ের মনের মধ্যে একটা অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছিল। সে জানতো, তার ভালোবাসা শুধু বন্ধুত্বের চেয়ে কিছুটা বেশি। কিন্তু সে কখনোই সেটা মিমির কাছে প্রকাশ করতে পারেনি। মিমির সাথে তার সম্পর্ক ছিল খুব সরল, খুব নির্দোষ। আর তার মধ্যে এতটুকু ভীতি ছিল, যেন কিছু বললে সেই সম্পর্কটাও হারিয়ে যাবে।


অধ্যায় ২: বিচ্ছেদ, দূরের পথে

গ্র্যাজুয়েশন শেষ হওয়ার পর, মিমি যখন ঢাকায় পড়তে চলে গেল, নিলয় সে সময়ে এক ধরনের অদ্ভুত শূন্যতার মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। মিমি ছিল তার জীবনের একটা অমূল্য অংশ, কিন্তু সে জানতো, তার উচিত ছিল মিমিকে তার স্বপ্নের পেছনে যেতে সাহায্য করা। মিমি শহরে গিয়ে খুব ভালো কলেজে ভর্তি হলো। আর নিলয়ও তার পরিবারের চাপের মধ্যে থেকে, স্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করল।

বছরের পর বছর কেটে গেল। তারা দুজনেই তাদের নিজ নিজ জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। একে অপরের সাথে যোগাযোগ কমে গিয়েছিল, তবে মাঝে মাঝে কিছু দিন পর তাদের কথা হতো। মিমি কখনোই বুঝতে পারেনি, নিলয় যে তাকে ভালোবাসে, বা তার অনুভূতি গভীর। নিলয়ও কখনো প্রকাশ করেনি তার ভালোবাসার কথা।

একদিন, অনেক বছর পর, মিমি ফিরে আসে গ্রামের বাড়িতে। তার জীবন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন, তার সামনে অনেক নতুন সুযোগ ছিল। কিন্তু কিছু একটা তাকে আবার গ্রামে ফিরতে বাধ্য করেছিল—শুধু মনে হচ্ছিল, কিছু একটা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।


অধ্যায় ৩: ফিরে আসা, পুরনো স্মৃতির আঁকড়ে

মিমি যখন গ্রামে ফিরলো, তার চোখে সেই পুরনো পরিচিত হাসি ছিল না। অনেক কিছু বদলে গেছে, কিন্তু গ্রামের সেই পুরনো রাস্তা, গাছের তলায় রাখা বেঞ্চ, স্কুলের মাঠ—এসব কিছুই ছিল আগের মতো। মিমি জানতো, নিলয় তখনো এখানে থাকে, কিন্তু সে আর তাকে খোঁজেনি। কেন জানি, মিমির মনে হচ্ছিল, কিছু একটা তার প্রতি বদলে গেছে।

একদিন, একটা বিকেল বেলায়, মিমি স্কুলের মাঠে হাঁটছিল। সেখানে হঠাৎই, নিলয়ের দেখা পেল। নিলয় ছিল একটু ভিন্ন, বয়সের ছাপ তার চেহারায় স্পষ্ট ছিল। তবে তার চোখে সেই পরিচিত এক ধরনের আগের মতো অনুভূতি ছিল।

“নিলয়...” মিমি একটু অবাক হয়ে বলল, “তুমি এখানে?”

“হ্যাঁ, আমি তো এখানেই আছি, মিমি। তুমি?” নিলয় মুচকি হেসে বলল, তবে তার হাসিতে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল।

“আমি... আমি এসেছি, নিলয়। অনেক বছর পর...,” মিমি বলেছিল, তার গলা কাঁপছিল।

নিলয় কিছু বললো না। সে কেবল মিমির দিকে তাকিয়ে ছিল, যেন অনেক কিছু বলার ছিল, কিন্তু কিছু বলতে পারছিল না।


অধ্যায় ৪: পুরনো অনুভূতি, নতুন অবস্থা

নিলয় আর মিমি একে অপরকে ভালো করে দেখছিল। তাদের চোখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ছিল, কিন্তু সেই সাথে কিছুটা বিষাদও ছিল। তাদের মধ্যে সেই পুরনো ভালোবাসা ছিল, কিন্তু সময় এবং পরিস্থিতি এখন ভিন্ন ছিল। মিমি জানতো, নিলয় এখন তার জীবনের কোনো অংশ নয়, এবং সে নিজেও জানতো যে, তাদের সম্পর্ক অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।

তবে সেই সন্ধ্যায়, যখন তারা স্কুলের মাঠে একসাথে হাঁটছিল, মিমি সোজা বলে ফেলল, “নিলয়, তোমার মনে কি কখনো আমার জন্য কিছু ছিল?”

নিলয় কিছুক্ষণ চুপ ছিল, তারপর গভীরভাবে বলল, “মিমি, আমি জানি, তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অংশ। আমি অনেক কিছু হারিয়েছি, কিন্তু তুমি... তুমি কখনো আমার জীবনে সত্যিই ছিলে।”

মিমি একটু অবাক হয়ে তাকাল। তার চোখে জল ছিল, কিন্তু সে হাসছিল। “তুমি জানো, নিলয়, আমি জানতাম তুমি কিছু একটা বলবে। আমি জানি, তোমার ভালোবাসা এখনও আমার কাছে আছে, কিন্তু আমি... আমি তোমার কাছে ফিরতে পারি না। আমি জানি, তুমি অন্য কোথাও চলে গেছ।”

নিলয় শ্বাস টেনে বলল, “আমি কোনোদিনও তোমাকে ছেড়ে যেতে চাইনি, মিমি। কিন্তু সময়, জীবন, আর সিদ্ধান্ত আমাদের একে অপরের থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। এখন, আমাদের জীবনে অনেক কিছু বদলে গেছে। কিন্তু তুমি জানো, আমি এখনও তোমার জন্য এখানে আছি।”


অধ্যায় ৫: শেষ দেখা, অসম্পূর্ণ ভালোবাসা

দিন শেষে, মিমি আর নিলয় একে অপরকে শেষবারের মতো দেখল। তাদের চোখে এখনও পুরনো ভালোবাসা ছিল, কিন্তু তাদের জীবনের পথে অনেক সময় চলে গেছে, অনেক কিছু বদলে গেছে। মিমি জানতো, নিলয় তাকে কোনোদিন ভুলতে পারবে না, তবে তাদের গল্প এখানেই শেষ হয়ে গেছে।

“আমাদের ভালোবাসাটা কখনোই শেষ হয়নি, নিলয়। শুধু... আমরা একে অপরকে বুঝতে পারিনি, আর সময় আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়েছে,” মিমি বলল, তার চোখে জল।

নিলয় মুচকি হেসে বলল, “তুমি ঠিক বলেছো, মিমি। হয়তো সময়ের সাথে কিছু সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়, কিন্তু কিছু ভালোবাসা কখনো মুছে যায় না।”

এটাই ছিল তাদের শেষ দেখা, শেষ ভালোবাসা। তবে তাদের হৃদয়ে, সেই ভালোবাসা চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।

শেষ

Comments